খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বিদ্যুত চুক্তি বাতিল হচ্ছেনা,দাম কমাতে চলছে আলোচনা: জ্বালানিমন্ত্রী

বিগত সরকারের সময় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি এখনই বাতিল করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সরকার। কারণ এসব চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে...
Homeঅর্থ-বানিজ্যফ্রিল্যান্সারদের জন্য এথন EXP Form লাগবে না: বাংলাদেশ ব্যাংক

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এথন EXP Form লাগবে না: বাংলাদেশ ব্যাংক

তথ্যপ্রযুক্তি, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও), সফটওয়্যার উন্নয়ন, ডিজিটাল কনটেন্ট, ডিজাইন, পরামর্শক সেবাসহ বিভিন্ন অদৃশ্য (Non-Physical) সেবা রপ্তানির ক্ষেত্রে আর পণ্য রপ্তানির মতো EXP ফরম জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

দেশের ফ্রিল্যান্সার, তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের পেশাজীবী এবং ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন আরও সহজ, স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে নতুন সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় অনলাইনভিত্তিক সেবা রপ্তানির বাস্তবতা বিবেচনায় এনে প্রচলিত কাগজভিত্তিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে ডিজিটাল প্রমাণ গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনা, নির্দিষ্ট অংশ বিদেশি মুদ্রায় সংরক্ষণ, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার এবং মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ (এফইপিডি-১) এ সংক্রান্ত সার্কুলার দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠায়।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও), সফটওয়্যার উন্নয়ন, ডিজিটাল কনটেন্ট, ডিজাইন, পরামর্শক সেবাসহ বিভিন্ন অদৃশ্য (Non-Physical) সেবা রপ্তানির ক্ষেত্রে আর পণ্য রপ্তানির মতো EXP ফরম জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

তবে বিদেশ থেকে অর্জিত আয় দেশে ফেরত আনা, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

ফ্রিল্যান্সারদের অন্যতম বড় সমস্যা ছিল প্রচলিত চালান বা শিপিং ডকুমেন্টের অনুপস্থিতি। নতুন সার্কুলারে সেই জটিলতা দূর করা হয়েছে।

এখন বিদেশি ক্লায়েন্টের কাছ থেকে সেবা প্রদান শেষে অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যাংক প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে বিভিন্ন ডিজিটাল প্রমাণ গ্রহণ করতে পারবে। এসব প্রমাণের মধ্যে থাকতে পারে, ই-মেইল যোগাযোগ, অনলাইন চুক্তিপত্র, ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মের স্টেটমেন্ট, ডিজিটাল ইনভয়েস, রেমিট্যান্স বার্তা, অন্যান্য গ্রহণযোগ্য ইলেকট্রনিক তথ্য।

আরও পড়ুন :  সেলাইয়ের দিন কি শেষ? অপারেশনের কাটা জোড়া দিতে নতুন আঠা তৈরি বিজ্ঞানীদের

এসব নথি যাচাইয়ের পর ব্যাংক সরাসরি গ্রাহকের হিসাবে অর্থ জমা দিতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় রেমিট্যান্স গ্রহণের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ছাড় দেওয়া হয়েছে।

এখন থেকে ২০ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা গ্রহণের ক্ষেত্রে ফর্ম-সি জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

তবে এর বেশি অর্থ দেশে এলে নির্ধারিত নিরাপদ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অনলাইন ফর্ম-সি (আইসিটি) জমা দিতে হবে, যদি বিদ্যমান অন্য কোনো নির্দেশনায় ছাড় না থাকে।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার (ওপিজিএসপি) ব্যবহার করে ক্ষুদ্র অঙ্কের সেবা রপ্তানি আয় দেশে আনার সুবিধাও বহাল রাখা হয়েছে।

এক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার মার্কিন ডলার।

তবে বিদেশে কোনো ন্যাশনাল হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রা জমা রেখে দেওয়া যাবে না। অর্জিত সব অর্থ নির্ধারিত নিয়মে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।

ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যোগ্য ফ্রিল্যান্সারদের জন্য দ্বৈত মুদ্রাভিত্তিক (ডুয়াল কারেন্সি) ফ্রিল্যান্সার কার্ড চালুর সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া বিদেশি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের সঙ্গে সমন্বয় করে, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি), ডিজিটাল ওয়ালেট, এবং ব্যাংক হিসাব এর মাধ্যমে সহজে রপ্তানি আয় দেশে আনার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন :  বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সার্কুলারে এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাব সম্পর্কেও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আইসিটি খাত, সফটওয়্যার উন্নয়ন, ডেটা প্রসেসিং এবং সংশ্লিষ্ট সেবা রপ্তানিকারকেরা তাদের নিট রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা হিসেবে ইআরকিউ হিসাবে সংরক্ষণ করতে পারবেন।

অন্যদিকে, অন্যান্য বৈধ সেবা রপ্তানিকারকেরা নিট রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা রাখতে পারবেন।

অবশিষ্ট অর্থ বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করে স্থানীয় ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ইআরকিউ হিসাবের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রও নির্ধারণ করে দিয়েছে।

এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে, বিদেশ ভ্রমণের ব্যয়, সফটওয়্যার নিবন্ধন, ডোমেইন ও হোস্টিং ফি, সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি আমদানি, বৈধ ব্যক্তিগত ব্যয়, ও অন্যান্য অনুমোদিত আন্তর্জাতিক লেনদেন।

এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করা ফ্রিল্যান্সার ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের বিদেশি ব্যয় নির্বাহ আরও সহজ হবে।

সার্কুলারে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী কর কর্তন ও পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি লেনদেনে ‘নো ইয়োর কাস্টমার’ (KYC), অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (AML/CFT) এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত বিদ্যমান সব বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

আরও পড়ুন :  মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ট্রাম্প প্রশাসনে ফাটল? ভ্যান্স বনাম রুবিওর দ্বন্দ্বে নতুন মোড়!

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সেবা রপ্তানি থেকে অর্জিত অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে আনতে হবে।

অনুমোদিত ব্যবস্থার বাইরে বিদেশে ব্যাংক হিসাব, সম্পদ বা ভার্চুয়াল সম্পদে (ডিজিটাল অ্যাসেট) রপ্তানি আয় সংরক্ষণ করলে তা বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নতুন সার্কুলারের ফলে দেশের ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল সেবা রপ্তানি খাত আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিজিটাল প্রমাণ গ্রহণ, EXP ফরমের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের ব্যবহার অব্যাহত রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করা বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের জন্য অর্থ দেশে আনার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

একই সঙ্গে বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনার প্রবণতা বাড়বে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। ডিজিটাল অর্থনীতির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই নির্দেশনা ফ্রিল্যান্সার, আইসিটি উদ্যোক্তা এবং সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ