খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বিদ্যুত চুক্তি বাতিল হচ্ছেনা,দাম কমাতে চলছে আলোচনা: জ্বালানিমন্ত্রী

বিগত সরকারের সময় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি এখনই বাতিল করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সরকার। কারণ এসব চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে...
Homeজাতীয়বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বন্যার প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশে টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় দ্রুত ও সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা, খাদ্য, চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দিনভর দেশের বিভিন্ন বন্যাকবলিত জেলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলে ক্ষয়ক্ষতি, উদ্ধার কার্যক্রম এবং স্থানীয় মানুষের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন।

বন্যার প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

তিনি নির্দেশ দেন, যাতে উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও দ্রুত, কার্যকর এবং সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, বন্যাকবলিত জেলাগুলোর সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিতকে।

আরও পড়ুন :  কাতারে ইরান-আমেরিকা শান্তি বৈঠক! মধ্যপ্রাচ্যে কি শেষ হতে চলেছে যুদ্ধের উত্তেজনা?

তিনি শনিবার ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে চট্টগ্রাম সফরে যাবেন। সেখানে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, কয়েকটি বন্যাকবলিত এলাকায় ধীরে ধীরে পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি জেলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

বন্যার সময় সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা নারী, শিশু এবং গর্ভবতী নারীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেছেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা, নিরাপদ পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন :  বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন? বিশেষজ্ঞদের ভবিষ্যদ্বাণী, মেসি বনাম ইয়ামাল!

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসা টিম প্রস্তুত রাখা, পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের কথাও বলা হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, কোনো দুর্গত পরিবার যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়।

দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যাতে চুরি, ডাকাতি, লুটপাট কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়মিত টহল জোরদার, আশ্রয়কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং যেকোনো অপরাধ দ্রুত দমনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রতিটি এলাকার বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।

সরকার মনে করছে, কেন্দ্র ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর সমন্বয় থাকলে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

আরও পড়ুন :  কলকাতা-সহ বাংলায় ফের বৃষ্টির দাপট! কোন জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি?

বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই বন্যা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছেন। তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং দুর্গত মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।

সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত জনবল, ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রী পাঠানো হবে।

সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করা। এজন্য উদ্ধার অভিযান, খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসাসেবা, নিরাপদ আশ্রয় এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদেরও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ কমিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ