খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বিদ্যুত চুক্তি বাতিল হচ্ছেনা,দাম কমাতে চলছে আলোচনা: জ্বালানিমন্ত্রী

বিগত সরকারের সময় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি এখনই বাতিল করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সরকার। কারণ এসব চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে...
Homeবিশ্ব সংবাদবাবার মৃত্যুর পর জনসমক্ষে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

বাবার মৃত্যুর পর জনসমক্ষে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

মোজতবা খামেনির দীর্ঘ অনুপস্থিতি কেবল ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় ছিল না; বরং এটি ছিল জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের অংশ বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার পর অবশেষে প্রকাশ্যে আসছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়িদ মোজতবা হোসাইনি খামেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে তাকে ঘিরে নানা গুঞ্জন, জল্পনা এবং আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। অবশেষে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় তার প্রকাশ্যে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় সেই জল্পনার অনেকটাই অবসান হতে যাচ্ছে।

রবিবার (১২ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানায়, আগামী ২৩ জুলাই তেহরানের ইমাম খোমেনি প্রার্থনা কক্ষে অনুষ্ঠিত একটি স্মরণসভায় মোজতবা খামেনি নেতৃত্ব দেবেন। এই অনুষ্ঠানটি তার প্রয়াত বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির স্মরণে আয়োজন করা হয়েছে।

ঘোষণা অনুযায়ী, স্মরণসভাটি আগামী ২৩ জুলাই বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে মোজতবা খামেনি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে তিনি সরাসরি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন নাকি ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে অংশ নেবেন, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উপস্থিতি শুধু একটি স্মরণসভায় অংশগ্রহণ নয়; বরং এটি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার আনুষ্ঠানিক জনসম্পৃক্ততারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হতে পারে।

আরও পড়ুন :  ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পরই মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ছয় দিনব্যাপী জানাজা ও দাফন কার্যক্রমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নজর ছিল ইরানের দিকে। ওই সময় আলি খামেনির পরিবারের সদস্য এবং শীর্ষ সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও মোজতবা খামেনিকে কোথাও দেখা যায়নি।

তার তিন ভাই মোস্তফা, মাসুদ ও মেসাম খামেনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের জ্যেষ্ঠ নেতা জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি এবং প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মহসেনি-এজেইসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কিন্তু নতুন সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার অবস্থান নিয়ে অসংখ্য গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

পশ্চিমা কয়েকটি গোয়েন্দা সূত্র দাবি করে, সাম্প্রতিক হামলায় মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল ও পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছিল। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তাজনিত কারণেই তাকে প্রকাশ্যে আনা হয়নি।

তবে ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের ভাষ্য, এটি শত্রুপক্ষের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ এবং ইরানের অভ্যন্তরে বিভ্রান্তি তৈরির একটি কৌশল।

আরও পড়ুন :  ৫৩০০ বছর পুরনো মমির ইস্ট থেকে তৈরি হলো সুস্বাদু পাউরুটি: বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিষ্কার

সরকারি সূত্র আরও জানায়, উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে শত্রুপক্ষ যেন তার অবস্থান শনাক্ত করতে না পারে, সে কারণেই নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাকে কিছু সময়ের জন্য জনসমক্ষে না আসার পরামর্শ দিয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের পর দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও কঠোর করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থার কারণে শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থান গোপন রাখা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণেই মোজতবা খামেনির দীর্ঘ অনুপস্থিতি কেবল ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় ছিল না; বরং এটি ছিল জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের অংশ বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর ১০ দিন পর মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকেই তিনি কার্যত জনসমক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন।

এই সময়ে তিনি প্রকাশ্যে কোনো বড় অনুষ্ঠান বা রাজনৈতিক সমাবেশে অংশ নেননি। ফলে দেশ-বিদেশের পর্যবেক্ষকদের মধ্যে তার নেতৃত্বের ধরন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

অনেকেই মনে করেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ তিনি দেশের নিরাপত্তা, সামরিক নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন :  থাইল্যান্ডে ভয়াবহ স্কুল শুটিং: ১৪ বছরের ছাত্রের হামলায় নিহত ৭, কড়া অস্ত্র আইনের দাবি

দাফন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর এক বিরল বার্তায় মোজতবা খামেনি তার বাবার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

তিনি বলেন, এই প্রতিশোধ কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতির বিষয় নয়, বরং এটি জাতির প্রত্যাশা। তার ভাষায়, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া হবে এবং পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, এই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে।

এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এর মাধ্যমে ইরান ভবিষ্যতের কৌশলগত অবস্থান সম্পর্কে একটি রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে।

মোজতবা খামেনির সম্ভাব্য জনসমক্ষে উপস্থিতিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহ বাড়ছে। তিনি কী বক্তব্য দেবেন, দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে কী অবস্থান তুলে ধরবেন এবং ভবিষ্যৎ নীতির কোনো ইঙ্গিত দেবেন কি না এসব বিষয় নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৩ জুলাইয়ের স্মরণসভা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং নতুন নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা বোঝার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সূত্র: উইয়ন নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ