খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeআবহাওয়ামেঘ সরিয়ে রোদের ঝিলিক দক্ষিণবঙ্গে, কমছে ভারী বৃষ্টি; কেমন থাকবে উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া?

মেঘ সরিয়ে রোদের ঝিলিক দক্ষিণবঙ্গে, কমছে ভারী বৃষ্টি; কেমন থাকবে উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া?

দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে বুধবার থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ফলে মৎস্যজীবী এবং সমুদ্রনির্ভর মানুষের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা জরুরি।

টানা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দক্ষিণবঙ্গে। সোমবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মেঘের আড়াল সরিয়ে দেখা মিলেছে রোদের। কোথাও আকাশ আংশিক মেঘলা, কোথাও আবার রোদের ঝিলিক। তবে এই স্বস্তি যে দীর্ঘস্থায়ী হবে, এমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ আবহাওয়ায় জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় বৃষ্টি কমলেও অস্বস্তিকর গরম থেকে পুরোপুরি মুক্তি মিলছে না।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে বিভিন্ন এলাকায়। একইসঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস।

অন্যদিকে উত্তরবঙ্গেও আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। কয়েকটি জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকে ফের বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে দক্ষিণবঙ্গে। ফলে সোমবারের সাময়িক স্বস্তির পর বুধবার থেকে আবহাওয়ার ছবিতে ফের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়া দেখা গিয়েছে। কোথাও ভারী বৃষ্টি হয়েছে, কোথাও আবার দফায় দফায় বৃষ্টির জেরে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।

তবে সোমবার সকাল থেকেই সেই পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যায়। আকাশে মেঘ থাকলেও অনেক জায়গায় রোদের দেখা মিলেছে। ফলে বৃষ্টির দাপট থেকে সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন সাধারণ মানুষ।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় সোমবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। দিনের বিভিন্ন সময়ে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।

অর্থাৎ, বৃষ্টি একেবারে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। তবে আগের তুলনায় তার তীব্রতা কমার সম্ভাবনাই বেশি।

দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় সোমবার হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া।

আরও পড়ুন :  আগামী ৫ দিন টানা বৃষ্টি! উত্তরবঙ্গে অতিভারী বর্ষণ, দক্ষিণে হলুদ সতর্কতা

এই জেলাগুলিতে বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

হাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘণ্টায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ফলে বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি না হলেও বাইরে বেরোনোর ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

বিশেষ করে উপকূলবর্তী এলাকা এবং খোলা জায়গায় থাকা মানুষদের ঝোড়ো হাওয়ার সময়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি কলকাতাতেও সোমবার আবহাওয়ার বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। সকাল থেকে শহরের আকাশে মেঘ ও রোদের খেলা চলতে পারে।

কখনও রোদ উঠবে, আবার কিছুক্ষণ পর মেঘে ঢেকে যেতে পারে আকাশ। এর মধ্যে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনাও থাকছে।

তবে আপাতত কলকাতায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই। ফলে গত কয়েক দিনের তুলনায় শহরবাসী কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।

তবে আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে রোদ উঠলেই গরমের অস্বস্তি বাড়তে পারে। বিশেষ করে দুপুরের দিকে ভ্যাপসা পরিবেশ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সোমবার ও মঙ্গলবারের তুলনামূলক স্বস্তির পর বুধবার থেকে ফের বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গে নতুন করে বৃষ্টির দাপট বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে যে জেলাগুলিতে সোমবার বৃষ্টি কম থাকবে, সেখানেও সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে ফের বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।

বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর-সহ উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এর ফলে উপকূলবর্তী এলাকার মানুষদের আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার ক্ষেত্রে উপকূলবর্তী জেলাগুলির পরিস্থিতি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে বুধবার থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ফলে মৎস্যজীবী এবং সমুদ্রনির্ভর মানুষের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা জরুরি।

আরও পড়ুন :  এমবাপ্পের গোলঝড়! বৃষ্টির বাধা পেরিয়ে ফ্রান্সের ৩-০ জয় : মেসির রেকর্ডের পিছু ধাওয়া

বর্ষাকালে সমুদ্র উত্তাল হলে ছোট নৌকা নিয়ে চলাচলেও ঝুঁকি বাড়ে। তাই স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কবার্তা থাকলে তা মেনে চলার প্রয়োজন রয়েছে।

শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গেও আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কমছে। সোমবার উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় তুলনামূলক স্বাভাবিক আবহাওয়া থাকতে পারে।

তবে পাহাড়ি এলাকায় সম্পূর্ণ শুকনো আবহাওয়া থাকবে না। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়িতে সোমবার বিকেল পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।

পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টির ক্ষেত্রে রাস্তা এবং ভূমিধসের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। টানা বৃষ্টি না হলেও পাহাড়ি অঞ্চলে অল্প সময়ের ভারী বর্ষণেও স্থানীয়ভাবে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

উত্তরবঙ্গের সমতল এলাকাতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।

তবে এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গের কোথাও বড় ধরনের ভারী বৃষ্টির সতর্কতা নেই।

ফলে গত কয়েক দিনের তুলনায় বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমতে পারে। তবে বর্ষাকালে আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় পরিস্থিতির উপর নজর রাখা জরুরি।

এখানেই রয়েছে বঙ্গবাসীর জন্য বড় সমস্যা। বৃষ্টি কমলেও আপাতত অস্বস্তিকর গরম থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

এর প্রধান কারণ বাতাসে জলীয়বাষ্পের আধিক্য। বর্ষাকালে আর্দ্রতা বেশি থাকলে তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও শরীরে গরম বেশি অনুভূত হয়।

সোমবার অনেক জায়গায় রোদ উঠলে এই অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। বৃষ্টির পরিমাণ কমে গেলে দিনের তাপমাত্রাও কিছুটা বাড়তে পারে।

অর্থাৎ, ভারী বৃষ্টি থেকে স্বস্তি মিললেও ভ্যাপসা গরম থেকে এখনই পুরোপুরি রেহাই নেই।

দক্ষিণবঙ্গের সোমবারের আবহাওয়াকে মোটের উপর রোদ-বৃষ্টির মিশ্র আবহাওয়া বলা যায়। দিনের শুরুতে রোদ উঠলেও পরে স্থানীয়ভাবে মেঘ তৈরি হয়ে বৃষ্টি নামতে পারে।

বর্ষাকালে এমন আবহাওয়া খুব স্বাভাবিক। কোনও এলাকায় রোদ থাকলেও কয়েক কিলোমিটার দূরের অন্য এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে।

তাই শুধু আকাশে রোদ দেখে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বিশেষ করে যাঁদের দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হয়, তাঁদের সঙ্গে ছাতা রাখাই ভালো।

আরও পড়ুন :  এআই কি চাকরির সবচেয়ে বড় শত্রু? ১ লক্ষ ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর সত্য!

ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইলে সাধারণত বড় ধরনের বিপর্যয় না হলেও দুর্বল গাছের ডাল ভেঙে পড়তে পারে। কোথাও কোথাও বিদ্যুতের তার বা অস্থায়ী কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

তাই ঝোড়ো হাওয়া শুরু হলে গাছের নিচে দাঁড়ানো এড়ানো উচিত। খোলা জায়গায় থাকলে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া ভালো।

বাইক বা ছোট যানবাহনে চলাচলের সময়ও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সোমবারের আবহাওয়ায় দক্ষিণবঙ্গবাসী সাময়িক স্বস্তি পেলেও সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়েই ফের বদল আসতে পারে।

বুধবার থেকে গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর-সহ উপকূলবর্তী এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

কলকাতাতেও বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফলে সোমবারের রোদ দেখে বর্ষার বিদায় ধরে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। বরং আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, কয়েক দিনের ব্যবধানে ফের বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে।

এই মুহূর্তে আবহাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো—ভারী বৃষ্টি থেকে সাময়িক স্বস্তি মিললেও বর্ষার প্রভাব কাটেনি।

দক্ষিণবঙ্গে সোমবার হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কয়েকটি জেলায় হলুদ সতর্কতা রয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কমলেও দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, মালদহ এবং দুই দিনাজপুরে বৃষ্টি হতে পারে।

আর সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকে ফের দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাই একদিকে যেমন ভারী বৃষ্টির সাময়িক বিরতিতে স্বস্তি মিলছে, অন্যদিকে আর্দ্রতাজনিত গরম ও ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা—দুইয়ের জন্যই প্রস্তুত থাকতে হবে বঙ্গবাসীকে।

সব মিলিয়ে সোমবারের আবহাওয়ায় দুর্যোগের মেঘ কিছুটা সরলেও বর্ষার দাপট পুরোপুরি কাটেনি। আপাতত রোদ-বৃষ্টির খেলা চলবে, আর বুধবার থেকে ফের বৃষ্টির চোখরাঙানি বাড়তে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ