খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালআর্জেন্টিনার সামনে মিশরের 'পিরামিড'! মেসির সব চেষ্টা ব্যর্থ, স্কালোনির বড় চ্যালেঞ্জ

আর্জেন্টিনার সামনে মিশরের ‘পিরামিড’! মেসির সব চেষ্টা ব্যর্থ, স্কালোনির বড় চ্যালেঞ্জ

অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং হুলিয়ান আলভারেজের নেওয়া দুর্দান্ত শটও অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন শোবের। তাঁর ধারাবাহিক সেভের কারণে আর্জেন্টিনা বারবার হতাশ হয়।

বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের দেখা পেল না আর্জেন্টিনা। একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে ব্যর্থ হন লিওনেল মেসি ও তাঁর সতীর্থরা। অন্যদিকে, সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায় মিশর। গোলরক্ষক মুস্তাফা শোবেরের দুর্দান্ত নৈপুণ্য এবং শক্ত রক্ষণভাগের কারণে বিরতিতে ১-০ গোলে পিছিয়ে মাঠ ছাড়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পেনাল্টি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ ছিল সেটি। কিন্তু স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

তিনি গোলরক্ষকের বাঁ দিক লক্ষ্য করে শট নিলেও তা সহজেই ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মুস্তাফা শোবের। চলতি বিশ্বকাপে এটি মেসির দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস, যা আর্জেন্টিনার জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়।

পেনাল্টি থেকে গোল হলে ম্যাচের গতিপথ বদলে যেতে পারত। কিন্তু সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় মিশর, আর চাপ আরও বেড়ে যায় আর্জেন্টিনার ওপর।

পেনাল্টি মিসের পরও আক্রমণ থামাননি মেসি। কিছুক্ষণ পর বিপজ্জনক জায়গা থেকে একটি ফ্রি-কিকের সুযোগ পান তিনি।

আরও পড়ুন :  মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে কে হবেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী?

বাঁ পায়ের নিখুঁত বাঁক খাওয়ানো শটটি গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও দুর্ভাগ্যবশত বল পোস্টে লেগে মাঠে ফিরে আসে। অল্পের জন্য গোলবঞ্চিত হন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। দর্শকদের হতাশা আরও বাড়িয়ে দেয় এই মুহূর্তটি।

প্রথমার্ধে মিশরের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক মুস্তাফা শোবের। শুধু মেসির পেনাল্টি ঠেকিয়েই থেমে থাকেননি, একাধিক নিশ্চিত গোলও রক্ষা করেন তিনি।

অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং হুলিয়ান আলভারেজের নেওয়া দুর্দান্ত শটও অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন শোবের। তাঁর ধারাবাহিক সেভের কারণে আর্জেন্টিনা বারবার হতাশ হয়।

পুরো প্রথমার্ধজুড়ে মনে হয়েছে, আর্জেন্টিনার সামনে যেন এক বিশাল পিরামিড হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এই গোলরক্ষক। তাঁর দৃঢ় পারফরম্যান্স না থাকলে স্কোরলাইন সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত।

মিশর শুরু থেকেই সুসংগঠিত কৌশল নিয়ে মাঠে নামে। তারা আর্জেন্টিনাকে মাঝমাঠে জায়গা দেয়নি এবং মেসিকে সবসময় একাধিক খেলোয়াড় দিয়ে ঘিরে রেখেছে।

রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক এবং বলের নিয়ন্ত্রণ—সব মিলিয়ে দারুণ পরিণত ফুটবল খেলেছে মিশর। তাদের পরিকল্পনা এতটাই কার্যকর ছিল যে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতেই পারেনি।

আরও পড়ুন :  সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা! সুইজারল্যান্ডকে হারালেও কেন চিন্তায় মেসির দল?

প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল আক্রমণে বৈচিত্র্যের অভাব। প্রায় প্রতিটি আক্রমণই মেসিকে ঘিরে গড়ে ওঠে।

মেসি বল পেলেই কয়েকজন ডিফেন্ডার তাঁকে চেপে ধরেছেন। ফলে অন্য খেলোয়াড়দের আরও দায়িত্ব নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেই সহায়তা খুব একটা দেখা যায়নি।

ম্যাক অ্যালিস্টার, আলভারেজ কিংবা অন্য মিডফিল্ডাররা প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে না পারায় মেসিকে একাই আক্রমণের ভার বহন করতে হয়েছে। এতে আর্জেন্টিনার আক্রমণ অনেকটাই অনুমানযোগ্য হয়ে পড়ে।

প্রথমার্ধ শেষে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় দ্বিতীয়ার্ধে কৌশল বদল করতেই হবে কোচ লিওনেল স্কালোনিকে।

শুধু মেসির ওপর নির্ভর করলে মিশরের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙা কঠিন হবে। উইং ব্যবহার, দ্রুত পাসিং, মিডফিল্ড থেকে বেশি সাপোর্ট এবং বক্সের ভেতরে খেলোয়াড় বাড়ানোর মতো পরিবর্তন আনতে হতে পারে।

একই সঙ্গে রক্ষণেও সতর্ক থাকতে হবে, কারণ কাউন্টার অ্যাটাকে মিশর আরও একটি গোল করার সুযোগ খুঁজবে।

মিশরের হয়ে করা একমাত্র গোলটি তাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। লিড পাওয়ার পর দলটি আরও সংগঠিত হয়ে রক্ষণ সামলেছে।

আরও পড়ুন :  প্যাসিভ ইনকামে বদলে যাচ্ছে নতুন আমেরিকান স্বপ্ন

দলের প্রতিটি খেলোয়াড় নিজেদের দায়িত্ব নিখুঁতভাবে পালন করেছেন। বিশেষ করে ডিফেন্স এবং গোলরক্ষকের সমন্বয় ছিল অসাধারণ। এই পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে দ্বিতীয়ার্ধেও আর্জেন্টিনাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারে মিশর।

ম্যাচে ফিরতে হলে আর্জেন্টিনাকে আরও গতিময় ফুটবল খেলতে হবে। বলের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি ডান ও বাঁ প্রান্ত ব্যবহার করে আক্রমণের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

মিডফিল্ড থেকে সৃজনশীল পাস, বক্সের বাইরে থেকে শট এবং দ্রুত বল আদান-প্রদানের মাধ্যমে মিশরের রক্ষণে ফাঁক তৈরি করার চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি মেসির সঙ্গে অন্য ফরোয়ার্ডদের সমন্বয়ও বাড়ানো জরুরি।

প্রথমার্ধে সুযোগের দিক থেকে পিছিয়ে ছিল না আর্জেন্টিনা। কিন্তু গোলরক্ষক মুস্তাফা শোবেরের অনবদ্য পারফরম্যান্স, মেসির পেনাল্টি মিস এবং পোস্টে লেগে ফিরে আসা ফ্রি-কিক ম্যাচের চিত্র বদলে দিয়েছে।

অন্যদিকে, মিশর শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ও কার্যকর আক্রমণে নিজেদের এগিয়ে রেখেছে। এখন সব নজর দ্বিতীয়ার্ধে। কৌশল বদলে আর্জেন্টিনা কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, নাকি মিশর ধরে রাখবে তাদের ঐতিহাসিক লিড—সেই উত্তর মিলবে ম্যাচের বাকি সময়েই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ