খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফুটবলইংল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ড: হ্যারি কেইনের গোলে কষ্টের জয়, বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে প্রশ্নের ছায়া

ইংল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ড: হ্যারি কেইনের গোলে কষ্টের জয়, বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে প্রশ্নের ছায়া

নিউজিল্যান্ড র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী তুলনামূলক দুর্বল দল। কিন্তু তাদের বিপক্ষেও ইংল্যান্ডকে গোল পেতে লেগে যায় প্রায় পুরো প্রথমার্ধ। মাঠের অবস্থা, গরম, আর কিছুটা অনুপ্রেরণার অভাব—সব মিলিয়ে ম্যাচটা অনেকটাই নিস্তেজ হয়ে যায়।

ইংল্যান্ড জাতীয় দল বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয় পেলেও পারফরম্যান্সে ছিল না প্রত্যাশিত ঝলক। তীব্র গরম আর আর্দ্র আবহাওয়ার মধ্যে খেলা হওয়ায় ম্যাচটি যেন এক ধরনের সহনশীলতার পরীক্ষায় পরিণত হয়। এই ম্যাচে একমাত্র গোলটি করেন দলের অধিনায়ক হ্যারি কেইন, যা আসে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে। তবে পুরো ম্যাচজুড়ে ইংল্যান্ডের খেলা দেখে বোঝা গেছে—বিশ্বকাপের আগে এখনো অনেক কাজ বাকি।

ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় খেলা হওয়ায় খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক ছন্দ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশ্বকাপে এমন আবহাওয়ায় খেলতে হবে—এটা মাথায় রেখেই ইংল্যান্ড আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যেমন ফিটনেস ট্র্যাকার, কুলিং ভেস্ট, এমনকি হাত ঠান্ডা রাখার ডিভাইসও।

কোচ থমাস টুখেল ম্যাচের মাঝপথেই পুরো দল বদলে দেন, যাতে খেলোয়াড়দের উপর চাপ কম থাকে। কিন্তু তীব্র গরমের কারণে দলের হাই প্রেসিং বা আক্রমণাত্মক খেলার ছাপ খুব একটা দেখা যায়নি। সহজ করে বললে, খেলোয়াড়রা যেন পুরো শক্তি দিয়ে খেলতেই পারছিল না।

নিউজিল্যান্ড র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী তুলনামূলক দুর্বল দল। কিন্তু তাদের বিপক্ষেও ইংল্যান্ডকে গোল পেতে লেগে যায় প্রায় পুরো প্রথমার্ধ। মাঠের অবস্থা, গরম, আর কিছুটা অনুপ্রেরণার অভাব—সব মিলিয়ে ম্যাচটা অনেকটাই নিস্তেজ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন :  গর্ডনের গোলে এগিয়ে ইংল্যান্ড: আর্জেন্টিনার রক্ষণ ভেঙে পড়ায় চাপে মেসির দল

দর্শকরাও হয়তো একটু হতাশ হয়েছেন। কারণ অনেকেই বেশ চড়া দামে টিকিট কিনে এই ম্যাচ দেখতে এসেছিলেন। কিন্তু তারা যে ধরনের রোমাঞ্চকর ফুটবল আশা করেছিলেন, তা দেখা যায়নি। বরং পুরো ম্যাচটা অনেকটা প্র্যাকটিস সেশনের মতো লেগেছে।

যখন দল ঠিকভাবে খেলতে পারে না, তখন একজন বড় খেলোয়াড়ই পার্থক্য গড়ে দেয়—এটাই আবার প্রমাণ করলেন হ্যারি কেইন। তার নিখুঁত হেড থেকে আসে ম্যাচের একমাত্র গোলটি। ক্রসটা এসেছিল ডেজেড স্পেন্সের কাছ থেকে, আর কেইন সেটাকে খুব সুন্দরভাবে জালে জড়িয়ে দেন।

কেইনের ধারাবাহিক গোল করার ক্ষমতা ইংল্যান্ডের জন্য বড় আশীর্বাদ। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার—দল এখনো তার উপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। ভবিষ্যতে বড় ম্যাচে এটা সমস্যা হতে পারে, যদি অন্যরা এগিয়ে না আসে।

এই ম্যাচে লেফট-ব্যাক পজিশনে নতুন কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেখা গেছে। প্রথমার্ধে স্পেন্স খেলেন এই পজিশনে এবং আক্রমণে তার ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। তার গতিই ছিল ইংল্যান্ডের আক্রমণের বড় শক্তি।

আরও পড়ুন :  FIFA World Cup 2026 বিজ্ঞাপন ঝড়: এমবাপের ‘ধমক’, রোনাল্ডো-ভিনিদের বিদ্রোহ...

দ্বিতীয়ার্ধে লিভরামেন্টো একই পজিশনে খেলেন, যদিও তিনি স্বাভাবিকভাবে রাইট-ফুটেড। এতে বোঝা যাচ্ছে, কোচ এখনো সেরা বিকল্প খুঁজে দেখছেন। বিশ্বকাপের আগে এই পজিশনটা নিয়ে আরো পরীক্ষা হতে পারে।

লেফট উইং পজিশনে মার্কাস রাশফোর্ড এবং অ্যান্থনি গর্ডনের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেশ জমে উঠেছে। দুজনেই বাম দিক থেকে ডান পায়ে কাট ইন করে খেলতে পছন্দ করেন।

রাশফোর্ড এই ম্যাচের আগে আলাদাভাবে ট্রেনিং করেছেন, যা দেখায় তিনি দলে নিজের জায়গা পাকা করতে খুবই সিরিয়াস। তবে এই ম্যাচে তিনি তেমন সুযোগ পাননি নিজেকে প্রমাণ করার।

অন্যদিকে গর্ডনও ভালো ফর্মে আছেন, ফলে এই পজিশনে কে জায়গা পাবে—তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিশ্বকাপের আগে এই প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে বলেই মনে হচ্ছে।

এই ম্যাচে কয়েকজন নতুন খেলোয়াড়কে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ উইঙ্গার রিও এনগুমোহা দ্বিতীয়ার্ধে অভিষেক করেন। যদিও তার পারফরম্যান্স নিয়ে খুব বেশি আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়নি, তবুও এটা ভবিষ্যতের জন্য একটা ইতিবাচক দিক।

আরও পড়ুন :  ভিনিসিয়াসের জাদুতে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম জয়! হাইতিকে ৩-০ উড়িয়ে দিল সেলেকাও

টুখেল পরিষ্কারভাবে বোঝাতে চাইছেন—তিনি শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের দলও গড়ছেন। তাই নতুনদের সুযোগ দেওয়া তার পরিকল্পনার অংশ।

এই ম্যাচের পর ইংল্যান্ডের সামনে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ আছে কোস্টা রিকার বিপক্ষে। এরপরই শুরু হবে বিশ্বকাপের আসল লড়াই, যেখানে তাদের প্রথম ম্যাচ ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে।

এই প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার—দলকে এখনো অনেক উন্নতি করতে হবে। বিশেষ করে আক্রমণে ধার বাড়ানো, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ আনা, আর ডিফেন্সে স্থিরতা—সব দিকেই কাজ করতে হবে।

একটা ছোট উদাহরণ দিই—যেমন পরীক্ষার আগে আমরা মক টেস্ট দিই, যাতে বুঝতে পারি কোথায় ভুল হচ্ছে। এই ম্যাচটা ইংল্যান্ডের জন্য ঠিক তেমনই ছিল। তারা জিতেছে ঠিকই, কিন্তু ভুলগুলোও স্পষ্ট হয়ে গেছে।

হ্যারি কেইনের গোল হয়তো ম্যাচ জিতিয়েছে, কিন্তু পুরো দলের পারফরম্যান্স বলছে—বিশ্বকাপে ভালো করতে হলে এখনই নিজেদের ঠিক করতে হবে। সামনে সময় আছে, এখন দেখার বিষয় তারা কত দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ