খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বিদ্যুত চুক্তি বাতিল হচ্ছেনা,দাম কমাতে চলছে আলোচনা: জ্বালানিমন্ত্রী

বিগত সরকারের সময় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি এখনই বাতিল করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সরকার। কারণ এসব চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে...
Homeজাতীয়সোনারগাঁয়ে তীব্র গ্যাস সংকট: ১৮টি সিএনজি স্টেশনে সরবরাহ বন্ধ

সোনারগাঁয়ে তীব্র গ্যাস সংকট: ১৮টি সিএনজি স্টেশনে সরবরাহ বন্ধ

গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম থাকায় প্রতিটি গাড়িতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পরিমাণ গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। ফলে চালকদের অপেক্ষার সময় যেমন বেড়েছে, তেমনি কমেছে তাদের দৈনিক আয়ও।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে হঠাৎ করেই তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চালকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস না পাওয়ায় পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ যাত্রীদেরও।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজারের মহেশখালী এলএনজি (LNG) গ্যাস টার্মিনালের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো সোনারগাঁয়েও। ফলে অধিকাংশ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরের পর থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশে গ্যাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। একের পর এক ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চালকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। যারা গ্যাস সংগ্রহের জন্য স্টেশনে পৌঁছেছেন, তাদের অনেককেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে অনেক চালক গ্যাস না পেয়ে খালি ট্যাংক নিয়েই স্টেশন থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

আরও পড়ুন :  আইপিএল থেকে অবসর নিচ্ছেন বিরাট কোহলি? আরসিবি সিইওর আবেগঘন মন্তব্যে তোলপাড় ক্রিকেট বিশ্ব!

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশে অন্তত ২০টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। মাত্র দুটি স্টেশনে সীমিত পরিসরে গ্যাস সরবরাহ চালু থাকায় সেখানে শত শত গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।

গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম থাকায় প্রতিটি গাড়িতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পরিমাণ গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। ফলে চালকদের অপেক্ষার সময় যেমন বেড়েছে, তেমনি কমেছে তাদের দৈনিক আয়ও।

টিপরদী এলাকার মধুমতি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে আসা প্রাইভেটকার চালক আমান মিয়া বলেন, দুপুর থেকে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। এখনও গ্যাস পাননি। কখন গ্যাস মিলবে, সেটিও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। এ কারণে দুপুরের পর থেকে তিনি কোনো ট্রিপ পরিচালনা করতে পারেননি।

অন্যদিকে, পিরোজপুর এলাকার শুকতারা ফিলিং স্টেশনে আসা আরেক প্রাইভেটকার চালক আলামিন জানান, সকাল থেকেই গ্যাসের চাপ ছিল অত্যন্ত কম। প্রায় দুই ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করার পর তিনি অল্প পরিমাণ গ্যাস সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন।

চালক আব্দুর রহমান বলেন, সাধারণ সময়ে তার গাড়িতে প্রায় ১১০০ টাকার গ্যাস প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমান সংকটের কারণে স্টেশন থেকে মাত্র ৩০০ টাকার গ্যাস দেওয়া হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না এবং একাধিক ট্রিপ পরিচালনার সুযোগও থাকছে না।

আরও পড়ুন :  নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের নিয়ে আনচেলত্তির কঠিন পরীক্ষা : ব্রাজিল কি আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে?

সিএনজিচালক মোবারক জানান, প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তারপরও যে পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যায়, তা দিয়ে আধাবেলার বেশি গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। ফলে অনেক চালক লোকসানের আশঙ্কায় গাড়ি বের করছেন না।

নাভানা সিএনজি ফিলিং স্টেশনের কর্মী রাতুল হাসান বলেন, কমপ্রেসার সচল থাকলেও লাইনে পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ইচ্ছা থাকলেও গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন টিপরদী এলাকার মধুমতি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বেশিরভাগ স্টেশন বন্ধ রয়েছে। যেসব স্টেশন চালু আছে, সেখানেও চাপ এত কম যে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মেঘনাঘাট শাখার ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সুরজিত কুমার সাহা জানান, মহেশখালীর এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি কারিগরি সমস্যার কারণে সারা দেশেই গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে স্বাভাবিক গ্যাস বিতরণ সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুন :  ফাইনালে হার, টিম বাসে আগুন! গুজরাট টাইটান্সের জন্য এক রাতেই নেমে এল দ্বিগুণ দুর্যোগ

তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করছেন। কারিগরি ত্রুটি দূর হলে ধাপে ধাপে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সোনারগাঁয়ের এই গ্যাস সংকট শুধু চালকদের দুর্ভোগই বাড়ায়নি, বরং স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থাকেও অচলাবস্থার মুখে ঠেলে দিয়েছে। দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা, পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাব এবং ট্রিপ কমে যাওয়ায় চালকদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে যাত্রীদেরও অতিরিক্ত সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ভাড়া বৃদ্ধি বা যানবাহনের সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

গ্যাস সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই চালক, যাত্রী এবং ফিলিং স্টেশন মালিকরা দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ