খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeমেডিকেল জার্নালশব্দতরঙ্গেই পারকিনসন্সের চিকিৎসা: অস্ত্রোপচার ছাড়াই নতুন আশার দিগন্ত

শব্দতরঙ্গেই পারকিনসন্সের চিকিৎসা: অস্ত্রোপচার ছাড়াই নতুন আশার দিগন্ত

এখন ভাবো, এত জটিল একটা রোগ যদি কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই, শুধু শব্দের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়— তাহলে কেমন হবে? শুনতে অবাক লাগলেও, বিজ্ঞানীরা ঠিক সেই পথেই এগোচ্ছেন।

পারকিনসন্স— নামটা আমরা অনেকেই শুনেছি, কিন্তু ভেতরের ভয়টা ঠিক বুঝি না। এই রোগ ধীরে ধীরে মানুষের শরীরকে দুর্বল করে দেয়। হাত কাঁপে, হাঁটতে কষ্ট হয়, কথা জড়িয়ে যায়। অনেক সময় রোগটা এমনভাবে বাড়ে যে মানুষ স্বাভাবিক জীবনই হারিয়ে ফেলে।

এখন ভাবো, এত জটিল একটা রোগ যদি কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই, শুধু শব্দের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়— তাহলে কেমন হবে? শুনতে অবাক লাগলেও, বিজ্ঞানীরা ঠিক সেই পথেই এগোচ্ছেন।

পারকিনসন্স কী এবং কেন এত ভয়ংকর

পারকিনসন্স মূলত একটি স্নায়বিক রোগ। সহজ করে বললে, আমাদের মস্তিষ্কের কিছু কোষ ঠিকমতো কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফলে শরীরের নিয়ন্ত্রণ কমে যায়।

ধরো, তুমি চা খেতে কাপ ধরলে— কিন্তু হাত কাঁপছে। কিংবা হাঁটতে গেলে বারবার ভারসাম্য হারাচ্ছো। এই সমস্যাগুলোই পারকিনসন্সের লক্ষণ।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এই রোগ সহজে ধরা পড়ে না। আর একবার ধরা পড়লে পুরোপুরি ভালো করার মতো কোনো ওষুধ এখনো নেই।

আরও পড়ুন :  মদের থেকেও বেশি ক্ষতি করছে এই খাবারগুলো! লিভার বাঁচাতে আজই সতর্ক হন

চিকিৎসায় নতুন বিপ্লব: ফোকাসড আলট্রাসাউন্ড

এখন আসল মজার জায়গা। বিজ্ঞানীরা এমন এক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন যার নাম ফোকাসড আলট্রাসাউন্ড

এটা শুনতে জটিল মনে হলেও ধারণাটা খুব সহজ। এখানে উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে মস্তিষ্কের ভেতরের সমস্যাযুক্ত অংশে সরাসরি প্রভাব ফেলা হয়।

মানে, কোনো অস্ত্রোপচার নেই, মাথা কাটার দরকার নেই— শুধু নির্দিষ্ট জায়গায় শব্দ পাঠিয়ে কাজ করা।

কীভাবে কাজ করে এই শব্দতরঙ্গ

আমাদের মাথার খুলি খুব শক্ত। তাই সাধারণভাবে মস্তিষ্কে পৌঁছানো কঠিন। কিন্তু এই প্রযুক্তিতে এমনভাবে শব্দতরঙ্গ পাঠানো হয়, যা সেই শক্ত খুলি ভেদ করে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে যায়।

যেখানে স্নায়ুগুলো জট পাকিয়ে সমস্যা তৈরি করছে, ঠিক সেখানে গিয়ে কাজ করে এই তরঙ্গ।

এটা অনেকটা এমন, যেন জট পাকানো তার ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে— বাইরে থেকে কিছু না কেটেই।

দুইভাবে কাজ করে এই চিকিৎসা

এই প্রযুক্তি মূলত দুইভাবে কাজ করে।

আরও পড়ুন :  অণ্ডকোষে বরফ বা রেড লাইট থেরাপি: শুক্রাণু বাড়ানোর অনলাইন পরামর্শ কতটা বৈজ্ঞানিক?

প্রথমটা হলো থার্মাল অ্যাবলেশন। এখানে একাধিক শব্দতরঙ্গ এক জায়গায় গিয়ে তাপ তৈরি করে। সেই তাপ ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ুকোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়।

দ্বিতীয় পদ্ধতিটা আরও ইন্টারেস্টিং। আমাদের মস্তিষ্কে একটা প্রাকৃতিক সুরক্ষা থাকে, যাকে বলা হয় ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার। এটা এমন একটা দেয়াল, যা সহজে ওষুধ ঢুকতে দেয় না।

শব্দতরঙ্গ সেই দেয়ালটাকে সাময়িকভাবে আলগা করে দেয়। ফলে ওষুধ বা অ্যান্টিবডি সহজেই মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়।

কেন এই পদ্ধতি এত গুরুত্বপূর্ণ

ভাবো, আগে যেখানে অস্ত্রোপচার করতে হতো, ঝুঁকি ছিল অনেক— এখন সেখানে কিছুই কাটতে হচ্ছে না।

রোগীর জন্য এটা অনেক নিরাপদ। ঝুঁকি কম, সময় কম লাগে, আর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।

বিশেষ করে বয়স্ক রোগীদের জন্য এটা বড় একটা সুবিধা।

বিশ্বজুড়ে গবেষণা চলছে

এই প্রযুক্তি এখন শুধু একটা ধারণা নয়। বিশ্বের বড় বড় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে এটি নিয়ে কাজ করছে।

আমেরিকা, কানাডাসহ অনেক দেশের বিজ্ঞানীরা পারকিনসন্স ছাড়াও আরও নানা স্নায়বিক রোগে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করার চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুন :  নীরব ঘাতক অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার: ঝুঁকি কমাতে মেনে চলুন এই ৫ কার্যকর উপায়

কিছু ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই সফলতার খবরও এসেছে। যদিও এখনো এটি পুরোপুরি সাধারণ চিকিৎসায় আসেনি, কিন্তু ভবিষ্যৎ খুব আশাব্যঞ্জক।

ভবিষ্যতে কী আশা করা যায়

যদি সবকিছু ঠিকভাবে এগোয়, তাহলে এমন একটা সময় আসতে পারে যখন পারকিনসন্স মানেই ভয় নয়।

ধরো, কেউ প্রথম দিকেই রোগটা ধরতে পারলো— তারপর কয়েকটা সেশন নিলো শব্দতরঙ্গ চিকিৎসার। হয়তো সে আবার স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে পারবে।

এটা শুধু চিকিৎসা নয়, মানুষের জীবনের মানই বদলে দিতে পারে।

শেষ কথা

পারকিনসন্সের মতো জটিল রোগকে যদি অস্ত্রোপচার ছাড়াই নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেটা সত্যিই এক বড় বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

শব্দ— যেটা আমরা প্রতিদিন শুনি, ব্যবহার করি— সেটাই এখন হয়ে উঠছে চিকিৎসার শক্তিশালী হাতিয়ার।

বিজ্ঞান প্রতিদিন আমাদের অবাক করছে। আর এই আবিষ্কারটা সেই তালিকার একদম সামনে জায়গা করে নিতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ