খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeদেশজুড়েভালোবেসে বিয়ে, মাত্র ৬ মাসেই শেষ! স্বামীর হাতে নির্মমভাবে খুন শাম্মী

ভালোবেসে বিয়ে, মাত্র ৬ মাসেই শেষ! স্বামীর হাতে নির্মমভাবে খুন শাম্মী

সোমবার সকালের দিকে বাসায় অবস্থানকালে মাদক সেবনের টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী সামিনা আক্তারকে ধারালো ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। ঘটনার পর সুজন নিজ শরীরেও ছুরি দিয়ে একাধিক আঘাত করে গুরুতর আহত হন।

বিয়ের ছয়মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই স্বামীর হাতে প্রাণ দিতে হলো নববধূ সামিনা আক্তার শাম্মীকে (২০)। সোমবার সকালে যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি তামালতলা
এলাকায় তাকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামী সুজন স্ত্রীকে হত্যার নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। মাদক সেবনের টাকা নিয়ে বাক-বিতন্ডার জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

নিহত স্ত্রী নিহত সামিনা আক্তার শাম্মী (২০) নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আত্মহত্যার চেষ্টা করা স্বামী সুজন টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা। প্রায় ছয় মাস আগে ভালবেসে বিয়ে করে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তারা যশোর শহরের শেখহাটি তামালতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

জানা গেছে, সামিনা ও সুজন সম্পর্কে মামাতো-ফুপাতো ভাই-বোন। স্বামী সুজন বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন
রয়েছেন।

আরও পড়ুন :  ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও বিশ্বকাপে জয়ের স্বপ্ন দেখছে ইরান


পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালের দিকে বাসায় অবস্থানকালে মাদক সেবনের টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী সামিনা আক্তারকে ধারালো ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। ঘটনার পর সুজন নিজ শরীরেও ছুরি দিয়ে একাধিক আঘাত করে গুরুতর আহত হন।

এ সময় আশেপাশের লোকজন তাদের দ্রুত উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সামিনাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর স্বামী সুজন পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত সামিনার মামা পিয়াস জানান, সুজন আগে বিদেশে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে ভালোবেসে তারা বিয়ে করেন এবং পরে আলাদা ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু
করেন। বর্তমানে সুজন বেকার ছিলেন এবং পুনরায় বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন :  আইপিএলের দাপটে বিপদে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট! জয় শাহের বোর্ডের বড় সিদ্ধান্ত

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাকিরুল ইসলাম বলেন, সামিনাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া সুজনের শরীরেও একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।” এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুজনের ওপর হামলার চেষ্টা করেন সামিনার কয়েকজন স্বজন।

এতে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে সুজনের
বাবা ও মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা আত্মীয়তার সম্পর্কের মধ্যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আলাদাভাবে বসবাস করতেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ