খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বিদ্যুত চুক্তি বাতিল হচ্ছেনা,দাম কমাতে চলছে আলোচনা: জ্বালানিমন্ত্রী

বিগত সরকারের সময় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি এখনই বাতিল করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সরকার। কারণ এসব চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে...
Homeদেশজুড়েঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে চালু ‘অভিযাত্রী কমিউটার’, কমবে যাতায়াতের ভোগান্তি

ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে চালু ‘অভিযাত্রী কমিউটার’, কমবে যাতায়াতের ভোগান্তি

রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ব্যবহার করে মানুষ তুলনামূলক কম খরচে ও নির্ভরযোগ্যভাবে ঢাকায় যেতে পারবেন। আবার কর্মদিবস শেষে একই দিনে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার সুযোগও থাকবে।

পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে নতুন এক জোড়া কমিউটার ট্রেন চালু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ নামের এই ট্রেনের মাধ্যমে গোপালগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার মানুষের ঢাকার সঙ্গে নিয়মিত ও স্বল্প ব্যয়ের যাতায়াতের সুযোগ আরও সহজ হলো।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এই ট্রেনের উদ্বোধন করা হয়। সড়ক পরিবহণ ও সেতু, নৌপরিবহণ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ট্রেনটির যাত্রা শুরু করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রেলসেবার পরিধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকার নিরাপদ, সাশ্রয়ী, আধুনিক এবং পরিবেশবান্ধব রেলসেবা সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। রাজধানী ও আশপাশের এলাকার মধ্যে কার্যকর কমিউটার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি আন্তঃনগর রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পর্যাপ্ত যাত্রীবাহী কোচ ও লোকোমোটিভের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিনের মধ্যেই ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ নামে এক জোড়া নতুন কমিউটার ট্রেন চালু করা সম্ভব হয়েছে।

নতুন এই ট্রেনটি চালুর ফলে গোপালগঞ্জ ও রুটের মধ্যবর্তী এলাকার চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ যাত্রীদের জন্য ঢাকায় দৈনন্দিন যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ব্যবহার করে মানুষ তুলনামূলক কম খরচে ও নির্ভরযোগ্যভাবে ঢাকায় যেতে পারবেন। আবার কর্মদিবস শেষে একই দিনে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার সুযোগও থাকবে।

আরও পড়ুন :  কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় ছাত্রদল নেতা কারাগারে

তার মতে, এ ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা রাজধানীকেন্দ্রিক মানুষের স্থায়ী আবাসনের প্রবণতা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। অনেক মানুষ কাজ বা পড়াশোনার কারণে ঢাকায় বসবাস করতে বাধ্য হন। দ্রুত ও নিয়মিত রেল যোগাযোগ নিশ্চিত হলে তাদের একটি অংশ নিজ এলাকায় থেকেই ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবেন।

এর ফলে রাজধানীর আবাসন খাতের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি সড়কে যানজট এবং বিভিন্ন নগরসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

শুধু যাত্রী পরিবহণ নয়, গোপালগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার অর্থনীতির জন্যও নতুন এই রেল যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শাকসবজি, কৃষিপণ্য, মাছসহ বিভিন্ন পণ্য দ্রুত ঢাকার বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।

রেলপথমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, তুলনামূলক কম ব্যয়ে এসব পণ্য রাজধানীর বাজারে পরিবহণ করা সম্ভব হলে উৎপাদক ও ভোক্তা—দুই পক্ষই লাভবান হতে পারেন। কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য বড় বাজারে সহজে পাঠানোর সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে পরিবহণ ব্যয় কমলে বাজারে পণ্যের দামের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

গোপালগঞ্জের মতো কৃষিনির্ভর অঞ্চলের জন্য এ ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে দ্রুত পচনশীল পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে নিয়মিত রেলসেবা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১৩৫ নম্বর ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনটি ঢাকা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টায় গোপালগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। ট্রেনটি গোপালগঞ্জে পৌঁছানোর কথা রয়েছে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে।

অন্যদিকে ১৩৬ নম্বর ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ গোপালগঞ্জ থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে। ট্রেনটি রাত ১০টা ২৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।

আরও পড়ুন :  বন্যা পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত

অর্থাৎ সকালে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে কাজ শেষ করে সন্ধ্যার পর একই ট্রেনে বা পরবর্তী যাত্রায় নিজ এলাকায় ফেরার সুযোগ না থাকলেও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ঢাকামুখী ও গোপালগঞ্জমুখী দুই দিকের নিয়মিত যোগাযোগ তৈরি হবে।

ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত এই রেলপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪৮ কিলোমিটার। পথে মোট সাতটি স্টেশনে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনের যাত্রাবিরতি থাকবে।

ঢাকা ও গোপালগঞ্জের মধ্যবর্তী নির্ধারিত স্টেশনগুলো হলো কেরাণীগঞ্জ, শ্রীনগর, মাওয়া, ভাঙ্গা জংশন, নগরকান্দা, মহেশপুর এবং কাশিয়ানী জংশন।

নতুন এই রেলসেবার সুফল শুধু গোপালগঞ্জের যাত্রীরাই পাবেন না, পথে থাকা স্টেশনগুলোর আশপাশের এলাকার মানুষও এর মাধ্যমে সহজে যাতায়াত করতে পারবেন। বিশেষ করে চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতের একটি সুবিধাজনক মাধ্যম তৈরি হবে। ফলে ঢাকা-গোপালগঞ্জ রেলপথের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনে মোট আটটি কোচ রয়েছে। এসব কোচে মোট ৬৩০টি আসন রয়েছে। ফলে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক যাত্রী এই ট্রেনের মাধ্যমে ঢাকা ও গোপালগঞ্জের মধ্যে যাতায়াত করতে পারবেন।

তবে ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শনিবার। সপ্তাহের অন্যান্য দিনে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেনটি চলাচল করবে।

নতুন এই ট্রেন চালুর ফলে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ যুক্ত হলো। পদ্মা সেতু চালুর পর সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এ অঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সংযোগ ধীরে ধীরে বাড়ছে।

আরও পড়ুন :  রাজশাহীতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে চরম ভোগান্তিতে সাধারন যাত্রী

‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনের উদ্বোধনী যাত্রায় গোপালগঞ্জের তিন সংসদ সদস্যও অংশ নেন। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী প্রথম যাত্রায় যাত্রীদের সঙ্গে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে ট্রেনে ওঠেন।

উদ্বোধনী যাত্রাকে ঘিরে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর সঙ্গে আশপাশের জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর দ্রুত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী গণপরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে ঢাকামুখী মানুষের চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব। কমিউটার ট্রেন এই ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

ঢাকার যানজট, বাড়তি ভাড়া, দীর্ঘ সময়ের সড়কযাত্রা এবং আবাসন ব্যয়ের কারণে অনেক মানুষ প্রতিদিনের যাতায়াতে সমস্যায় পড়েন। নিয়মিত ট্রেন থাকলে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরশীলতাও কমানো সম্ভব হতে পারে।

ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ চালুর ফলে গোপালগঞ্জের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার পাশাপাশি কেরাণীগঞ্জ, শ্রীনগর, মাওয়া, ভাঙ্গা, নগরকান্দা, মহেশপুর ও কাশিয়ানী এলাকার যাত্রীরাও নতুন একটি পরিবহণ সুবিধা পেলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ