খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeলাইফস্টাইলবর্ষায় বারবার অসুস্থ হচ্ছেন? এই ৮ লক্ষণ জানাচ্ছে আপনার ইমিউনিটি দুর্বল!

বর্ষায় বারবার অসুস্থ হচ্ছেন? এই ৮ লক্ষণ জানাচ্ছে আপনার ইমিউনিটি দুর্বল!

গলায় খুসখুসে ভাব, ব্যথা বা জ্বালাপোড়া যদি বারবার ফিরে আসে, তাহলে সেটি ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। শরীর যখন সংক্রমণ সম্পূর্ণভাবে দূর করতে পারে না, তখন একই সমস্যা বারবার দেখা দেয়।

বর্ষাকাল অনেকের কাছে স্বস্তির ঋতু হলেও স্বাস্থ্যঝুঁকির দিক থেকে এটি বেশ সংবেদনশীল সময়। বাতাসে আর্দ্রতা বৃদ্ধি, দূষিত পানি, জীবাণুর দ্রুত বিস্তার এবং আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে এই সময়ে সর্দি-কাশি, জ্বর, ভাইরাল সংক্রমণ, পেটের সমস্যা এবং ত্বকের বিভিন্ন রোগের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

মাঝেমধ্যে অসুস্থ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যদি অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার একই ধরনের সংক্রমণে আক্রান্ত হন, তাহলে সেটিকে সাধারণ ঘটনা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি দুর্বল হয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর বড় কোনো সমস্যার আগে ছোট ছোট সংকেত দিতে শুরু করে। এসব লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা গেলে সময়মতো চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে জটিল রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

যদি প্রায়ই সর্দি-কাশি হয়, দীর্ঘদিন কাশি না সারে অথবা বারবার জ্বর আসে, তাহলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করছে না বলেই ধরে নেওয়া যায়। শক্তিশালী ইমিউনিটি সাধারণ ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কিন্তু ইমিউনিটি দুর্বল হলে একই ধরনের সংক্রমণ বারবার ফিরে আসে।

আরও পড়ুন :  দ্য লাস্ট ডান্স! শেষ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে মেসি ও রোনাল্ডো

রাতে ভালো ঘুমানোর পরও যদি সারাদিন অবসন্ন লাগে, কাজে মনোযোগ কমে যায় বা শরীর ভারী মনে হয়, তাহলে এটি শুধু মানসিক চাপের কারণে নাও হতে পারে। সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শরীর অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করে। ফলে স্বাভাবিক কাজেও ক্লান্তি অনুভূত হয়।

সামান্য কাটা, আঁচড় বা ক্ষত যদি দীর্ঘদিনেও না শুকায়, ক্ষতস্থানে লালভাব, ফোলা বা ব্যথা থেকে যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ সুস্থ রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্রুত নতুন টিস্যু তৈরি করে ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। ইমিউনিটি দুর্বল হলে এই প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়।

ঘন ঘন ডায়রিয়া, গ্যাস, বদহজম, পেটব্যথা বা হজমের গোলমাল হলে সেটি কেবল খাদ্যাভ্যাসের কারণে নয়, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণেও হতে পারে। মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি বড় অংশ অন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই অন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হলে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।

বর্ষাকালে ঘন ঘন মাথাব্যথার পেছনে সাইনাস সংক্রমণ, ভাইরাল অসুস্থতা কিংবা শরীরে পানিশূন্যতা দায়ী হতে পারে। ইমিউনিটি কম থাকলে এসব সমস্যা আরও সহজে শরীরে প্রভাব ফেলে এবং দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

আরও পড়ুন :  বিশ্বকাপের আসল তারকা কি লামিনে ইয়ামালের ভাই? কেইনের মিষ্টি কাণ্ডে মুগ্ধ ফুটবল বিশ্ব!

গলায় খুসখুসে ভাব, ব্যথা বা জ্বালাপোড়া যদি বারবার ফিরে আসে, তাহলে সেটি ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। শরীর যখন সংক্রমণ সম্পূর্ণভাবে দূর করতে পারে না, তখন একই সমস্যা বারবার দেখা দেয়।

বর্ষার স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তারের জন্য আদর্শ। ফলে অনেকের ত্বকে চুলকানি, র‍্যাশ, লালচে দাগ বা ফাঙ্গাল সংক্রমণ দেখা দেয়। যদি এসব সমস্যা বারবার হয়, তাহলে তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।

কয়েক দিন ধরে খাবারে অনীহা, ক্ষুধামন্দা বা খেতে ইচ্ছা না করা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। শরীরে সংক্রমণ থাকলে বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ইমিউনিটি ভালো রাখতে শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর করলেই হবে না। প্রতিদিনের কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

  • সবসময় টাটকা ও নিরাপদ খাবার খান।
  • বিশুদ্ধ ও পরিশোধিত পানি পান করুন।
  • প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
  • নিয়মিত হাঁটা বা হালকা শরীরচর্চা করুন।
  • হাত ধোয়া ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস বজায় রাখুন।
  • খাদ্যতালিকায় ফল, শাকসবজি, প্রোটিন ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন।
  • অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলুন।
  • প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।
আরও পড়ুন :  ফকল্যান্ড যুদ্ধ থেকে বিশ্বকাপ! ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথের নেপথ্যের অজানা ইতিহাস

যদি উপরের একাধিক লক্ষণ দীর্ঘদিন ধরে থাকে, বারবার সংক্রমণ হয় অথবা সাধারণ চিকিৎসাতেও সুস্থ হতে দেরি হয়, তাহলে নিজে থেকে ওষুধ খাওয়ার পরিবর্তে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা যেতে পারে।

বর্ষাকালে সংক্রমণের ঝুঁকি কিছুটা বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে যদি অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার অসুস্থ হন, সেটিকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। শরীরের দেওয়া ছোট ছোট সংকেতই অনেক সময় বড় সমস্যার পূর্বাভাস দেয়। তাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখা সম্ভব। সচেতন থাকলে বর্ষাতেও সুস্থ ও নিরাপদ থাকা অনেক সহজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ