২০২৬ সালের অন্যতম প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’ নিয়ে দর্শকদের উত্তেজনা যেন ক্রমেই বাড়ছে। প্রথমে ‘তাবাহি’ গান ঘিরে চর্চা, তার পর ট্রেলার প্রকাশ—সব মিলিয়ে মুক্তির আগেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে যশ অভিনীত এই সিনেমা।
গানের পর থেকেই ‘টক্সিক’-এর ট্রেলার দেখার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন সিনেপ্রেমীরা। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে। ৮ আগস্ট বেঙ্গালুরুতে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে সিনেমাটির ট্রেলার। আর ট্রেলার সামনে আসতেই স্পষ্ট হয়েছে, এটি নিছক আর পাঁচটা অ্যাকশন ছবি নয়। অন্ধকার অপরাধজগৎ, ক্ষমতার লড়াই, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং রক্তাক্ত সংঘাত—সবকিছুর মিশেলে তৈরি হয়েছে ছবির আবহ।
‘টক্সিক’-এর অন্যতম বড় আকর্ষণ যশের দ্বৈত চরিত্র। ট্রেলারে তাঁর দুই ভিন্ন অবতারের ঝলক দর্শকদের নজর কেড়েছে।
একদিকে রয়েছে তাঁর চরিত্র রায়া, অন্যদিকে বাবা-ছেলের সম্পর্কের জটিল সমীকরণ। ট্রেলার যত এগিয়েছে, ততই বোঝা গিয়েছে যে যশের চরিত্র শুধু একজন সাধারণ নায়ক নয়।
অপরাধের অন্ধকার দুনিয়ায় নিজের প্রভাব বিস্তার করা এক শক্তিশালী চরিত্র হিসেবেই দেখা যাচ্ছে তাঁকে। ক্ষমতা ধরে রাখতে গিয়ে তাঁকে কতটা নির্মম হতে হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
ছবির গল্পের পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ১৯৯০-এর দশকের গোয়াকে। সেই সময়ের অপরাধজগত, মাদকচক্র এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে গল্প।
ট্রেলারে দেখা মিলেছে এমন এক অন্ধকার দুনিয়ার, যেখানে অর্থ, ক্ষমতা এবং অপরাধ একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
রায়া সেই দুনিয়ারই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। নিজের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে তাঁকে একাধিক সংঘাতের মুখোমুখি হতে হবে বলে ট্রেলার থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
যশের পাশাপাশি ছবিতে রয়েছেন একাধিক জনপ্রিয় অভিনেত্রী। কিয়ারা আডবাণী, নয়নতারা, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া এবং রুক্মিণী বসন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
ট্রেলারে রায়ার সঙ্গে তাঁদের চরিত্রগুলির সম্পর্কের বেশ কিছু ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কোথাও প্রেম, কোথাও সংঘাত, আবার কোথাও বিশ্বাস এবং বিশ্বাসঘাতকতার আবহ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে রায়ার ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলো যে গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে, তা ট্রেলারের বিভিন্ন দৃশ্য থেকেই স্পষ্ট।
‘টক্সিক’-এর প্রথম গান ‘তাবাহি’ প্রকাশের পর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছিল। গানটির ঘনিষ্ঠ দৃশ্য এবং যশ-কিয়ারার রসায়ন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্তর চর্চা হয়েছিল।
অনেকেই তখন থেকেই অনুমান করছিলেন, সিনেমার ট্রেলারেও হয়তো প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি কিছু দৃশ্য থাকবে।
ট্রেলার প্রকাশের পর সেই জল্পনা আরও বেড়েছে। সম্পর্কের টানাপোড়েন, ঘনিষ্ঠতা এবং অন্ধকার আবহের সঙ্গে ছবির অ্যাকশনকে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ট্রেলারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলির একটি হলো বাবা-ছেলের সম্পর্ক।
যশকে একই সঙ্গে বাবা এবং ছেলের চরিত্রে দেখা যাবে বলে ছবির নির্মাতারা জানিয়েছেন। ফলে একই অভিনেতার দুই প্রজন্মের চরিত্রের মধ্যে সম্পর্ক কীভাবে গড়ে উঠবে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
ট্রেলারের শেষদিকে বাবা-ছেলের সম্পর্কের মধ্যে সংঘাতের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। যে সম্পর্ক শুরুতে আবেগ ও পারিবারিক বন্ধনের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে হলেও পরবর্তীতে সেটিই ক্ষমতার দ্বন্দ্বে পরিণত হতে পারে।
এই সম্পর্কের আসল রহস্য জানতে দর্শকদের সিনেমা মুক্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
‘টক্সিক’-এর ট্রেলার শুধু প্রেমের গল্পের দিকে এগোয়নি। বরং এর কেন্দ্রে রয়েছে ক্ষমতার লড়াই এবং অপরাধজগতের নির্মম বাস্তবতা।
রায়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা, উগ্র মেজাজ এবং নিজের সাম্রাজ্য বিস্তারের চেষ্টা গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে হচ্ছে।
এর সঙ্গে রয়েছে সম্পর্কের ভাঙাগড়া এবং চরিত্রগুলির মধ্যে বিশ্বাসের সংকট। ফলে সিনেমাটির গল্পে আবেগ ও অ্যাকশনের পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ট্রেলারে রায়ার চরিত্রের কিছু আচরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং আচরণে নারীবিদ্বেষের ছাপ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
তবে ট্রেলার দেখে পুরো গল্পের বিচার করা সম্ভব নয়। চরিত্রটির অন্ধকার দিকগুলো কেন তৈরি হয়েছে, তার পেছনে কী কারণ রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর পরিণতি কী হয়—এসবই সিনেমায় পরিষ্কার হবে।
ট্রেলারে অ্যাকশন দৃশ্যেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। বন্দুক, মারামারি, ধাওয়া এবং রক্তাক্ত সংঘাতের একাধিক ঝলক দেখা গেছে।
এর সঙ্গে চোখধাঁধানো প্রোডাকশন ডিজাইন ছবির আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে। নব্বইয়ের দশকের গোয়া এবং অপরাধজগতের পরিবেশকে পর্দায় তুলে ধরতে বড় আকারের সেট ও ভিজ্যুয়াল ব্যবহার করা হয়েছে বলে ট্রেলার থেকে বোঝা যাচ্ছে।
ফলে ছবিটি বড় পর্দায় কতটা দর্শনীয় হয়ে ওঠে, সেদিকেও নজর থাকবে।
গান প্রকাশের পর থেকেই ‘টক্সিক’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ ছিল। এবার ট্রেলার সেই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
যশের দ্বৈত চরিত্র, কিয়ারা আডবাণী ও অন্যান্য অভিনেতার উপস্থিতি, অপরাধের গল্প, অ্যাকশন, সম্পর্কের জটিলতা এবং রহস্য—সব মিলিয়ে ছবিটিকে ঘিরে প্রত্যাশা এখন অনেকটাই বেশি।
তবে ট্রেলারে যতই চমক থাকুক, ‘টক্সিক’ সত্যিই দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে কি না, তার উত্তর মিলবে সিনেমা মুক্তির পরেই।
এই মুহূর্তে অবশ্য একটি বিষয় পরিষ্কার—যশের ‘টক্সিক’ মুক্তির আগেই সিনেমাপ্রেমীদের কৌতূহলের কেন্দ্রে জায়গা করে নিয়েছে।


